Followers

Tuesday, November 20, 2018

ইনকিউবেটরে বাচ্চা ফোটানোর জন্য জরুরী কিছু তথ্য

১।       ডিম নির্বাচন। ডিম দুই প্রকারের হয়ে থাকে। নিষক্ত এবং অনিষিক্ত ডিম। আমরা বাজার থেকে যে ফার্মের ডিম কিনে থাকি সেগুলো সবই অনিষিক্ত ডিম এগুলো দিয়ে বাচ্চা ফুটবে না। আর বাজারে যেসব দেশী মুরগীর ডিম পাওয়া যায় সেগুলো সাধারণত নিষক্ত ডিম হয়ে থাকে এবং এগুলো দিয়ে ইনকিউবেটরে বাচ্চা ফুটানো সম্ভব। সুতরাং ইনকিউবেটরে ডিম দেবার আগে সেগুলো নিষক্ত ডিম কিনা সেটা নিশ্চত হয়ে নিন। তা না হলে নির্দিষ্ট সময় পর পচা ডিমের গন্ধে আপনার বাড়ী ভরে যাবে।  আর ডিম সংগ্রহের পর সেগুলো রুম তাপমাত্রায় রাখুন। রেফ্রিজারেটরে রাখলে সেগুলো ইনকিউবেটরে দেবার আগে ৪-৫ ঘন্টা রুম তাপমাত্রায় রেখে স্বাভাবিক করে নিন। এক দিন বয়সী কিংবা অনেক পুরনো ডিম পরিহার করা উচিত।

২।       ইনকিউবেটরের তাপমাত্রা ও আদ্রতা নির্বাচন। ৯৯.৫০  ফারেনহাইট অথবা ৩৭.৫সেলসিয়াস। এর সামান্য কমবেশী হলে ডিম দেরিতে অথবা তাড়াতাড়ি ফুটবে। যদি তাপমাত্রা খুব কম অথবা অনেক বেশী হয় তাহলে ডিম ফুটবে না।  ডিম ফূটার তিন দিন আগে পর্যন্ত আদ্রতা ৫০-৬০% রাখুন, শেষ তিন দিন আদ্রতা ৭০-৭৫% রাখতে হবে যাতে ডিমের খোলস নরম থাকে এবং খোলস ভেংগে বাচ্চা বেরিয়ে আসতে পারে।

৩।      ইনকিউবেটর প্রস্তুত করণ। ডিম দেয়ার আগে ইনকিউবেটরকে কম পক্ষে ৫-৬ ঘন্টা চালিয়ে তাপমাত্রা ৯৯.৫০  ফারেনহাইট অথবা ৩৭.৫০ সেলসিয়াস এ আনুন। এর মাধ্যমে ইনকিউবেটরের ছোট খাট সমস্যা থাকলে সেটাও ধরা যাবে।

৪।       কিভাবে ডিম রাখবেন। ইনকিউবেটরের ডিম রাখার সময় সরু অংশ নীচের দিকে রাখুন। ডিম রাখার সময় ইনকিউবেটরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে কারন ডিমগুলো কিছু তাপমাত্রা শোষন করবে, ভেতরের বাচায় বাইরে বের হয়ে আসবে অথবা বাইরের বাচাস ভেতরে ঢুকবে। ৫-৬ ঘন্টা পরেও যদি তাপমাত্রা ৩৭.৫০ সেলসিয়াসে না পৌছে তবে ইনকিউবেটর পরীক্ষা করুন। একবার ডিম দেবার পর ৭ দিনের আগে আর খুলবেন না।  ৭-৮ দিন পর খুলে একটা একটা করে ডিম পরীক্ষা করে দেখুন যে ডিমের ভেতরের ভ্রুন তৈরী হয়েছে কিনা। যেগুলোতে ভ্রূন তৈরী হয়েছে, সেই ডিমগুলো পাশাপাশি রাখুন।

৫।       মাঝে মাঝে ইনকিউবেটরের তাপমাত্রা কমে যায় কেন? যেহেতু  ইনকিউবেটরের হিটার সারাক্ষন অন অবস্থায় থাকে না তাই কিছুক্ষন পর পর ভেতরের তাপমাত্রা কমে যাবে। ভয় পাবার কিছু নেই। ইনকিউবেটর ঠিক থাকলে কিছুক্ষন পর পর হিটার অন হয়ে তাপমাত্রা ঠিক হয়ে যাবে।   এভাবেই ইনকিউবেটর তৈরী করা হয়েছে।

৬।       ভেন্টিলেশন। ভ্রূন তৈরী হবার সময়ে এবং তারপর থেকে বাচ্চা বের হওয়া পর্যন্ত ডিমেরও শ্বাস – প্রশ্বাস নিতে হয়।  ভ্রূনের জন্য বাতাসের তাজা অক্সিজেন খুব জরুরী। প্রথম দিকে কম অক্সিজেন লাগলেও ভ্রূন গুলো বড় হতে থাকলে এবং বাচ্চা বের হবার পর প্রচুর অক্সিজেন লাগে। ডিম রাখার এক সপ্তাহ পর একবার ১-২ ঘন্তার জন্য ভেন্টিলেশন উইন্ডোগুলো খুলে রাখুন যাতে তাজা বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে। এরপর প্রতিদিন বা ২-৩ দিন অন্তর একবার অন্তত ৫-১০ মিনিটের জন্য ভেন্টিলেশন উইন্ডোগুলো খুলে রাখুন। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে শুরু করলে, ভেন্টিলেশন উইন্ডোগুলো সব সময়ের জন্য খুলে দিন।

৭।       ডিম পরীক্ষা করুন। ডিম রাখার ৭ দিন পর একটা একটা করে ডিম নিয়ে আলোতে ধরে পরীক্ষা করুন। আমাদের দেয়া এগ ক্যান্ডল ব্যবহার করুন। যেসব ডিমে ভ্রুন তৈরী হয়নি সেগুলোতে পেন্সিল দিয়ে দাগ দিয়ে আলাদা এক জায়গায় আবার বসিয়ে দিন। ১৪ দিনের মাথায় আবারো শুধুমাত্র দাগ দেয়া ডিম গুলো পরীক্ষা করুন। এখনও যেসব ডিমে ভ্রুন দেখতে পাচ্ছেন না সেগুলো ফেলে দিন, বাকী গুলো আবার ইনকিউবেটরে দিয়ে দিন।  ডিম খুব বেশী নড়াচড়া কিংবা ঝাকুনী দিবেন না। এতে ভ্রুন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এসময় খুব বেশী সময় ধরে ইনকিউবেটরের দরজা খোলা রাখলে আদ্রতা কমে গিয়ে আগেরবারের ভাল ডিমগুলো ভেতরে ভেতরে শুকিয়ে ভ্রুন মরে যাবে।

৮।      ডিম ঘুরানো বন্ধ করুন। দিম দেবার পর ডিমের ট্রে আপনা আপনি ঘুরতে থাকবে। এটা প্রতি দুই ঘন্টা পর একবার ঘুরবে। ডিম ফুটার তিন দিন আগে থেকে Turning Switch অফ করে দিন এবং সব ডিমকে টার্নিং ট্রে থেকে সরিয়ে হ্যাচিং ট্রেতে রাখুন। ইনকিউবেটরের আদ্রতা বাড়িয়ে দিন আর অপেক্ষা করুন। এই তিন দিন অতি ভয়াবহ জরুরী অবস্থা ছাড়া ইনকিউবেটরের দরজা খুলবেন না।

৯।       হাঁস –মুরগী-কোয়েল বা টার্কির ডিম একসাথে? না কখনো এই কাজটি করবেন না। যেহেতু একেক ডিম একেক সময়ে ফুটবে, তাই বারবার ইনকিউবেটরের দরজা খোলা – বন্ধ করতে গেলে আদ্রতা এবং তাপমাত্রা কমে গিয়ে অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যাবে। অবশ্য একটু বুদ্ধি খাটালে এটা সম্ভব। হাঁসের ডিম ২৮ দিন, মুরগী ২১ আর কোয়েলের ডিম ১৮ দিনে ফুটে।  যদি সব ধরনের ডিম একসাথে দিতে চান,  তাহলে প্রথমে হাঁসের ডিম দিন। এর ৭ দিন পর ডিম পরীক্ষার সময় মুরগীর ডিম দিন। তার তিন দিন পর দিন কোয়েলের ডিম রাখুন। এতে করে হাঁস – মুরগী আর কোয়েলের বাচ্চা একই সময়ে ফুটবে। তবে এতেও কিছু  হাঁসের ডিম নষ্ট হতে পারে।

১০।     নির্দিষ্ট দিনেও ডিম ফুটেনি? ঘাবড়াবেন না। অনেক কারনেই ডিম দেরীতে ফুটতে পারে। তাই ১৮, ২১ বা ২৮ দিনে ডিম না ফুটলে আরো ২ দিন অপেক্ষা করুন। এরপরও না ফুটলে কয়েকটা ডিম ভেংগে পরীক্ষা করে দেখুন ভেতরের অবস্থা কি। তারপর চাইলে আরো সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করুন অথবা না ফোটা ডিম ফেলে দিন। প্রথম প্রথম ইনকিউবেটর ব্যবহারের অনভিজ্ঞতার কারনে কিছু ডিম নষ্ট হতে পারে। আস্তে আস্তে দুই একটি ব্যাচ করার পর আপনার অভিজ্ঞতা আপনাকে অনেক সাহায্য করবে।

১১।     বাচ্চা ফুটছে – কি করবেন? অভিনন্দন আপনাকে। Congratulations. ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে সেগুলো শুকিয়ে ঝরঝরে হতে দিন। তারপর ওরা নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কিচির মিচির করবে। এরপর তাদেরকে উষ্ণ ব্রুডারে রাখুন। খাবার, পানি দিন। ব্রুডার গরম রাখুন। মনে রাখবেন ডিম ফোটার পর ২৪ -৩০ ঘন্টা পর্যন্ত বাচ্চার কোন খাবার বা পানির দরকার নেই। ডিম ভেংগে বাচ্চার ঠোট বের করে উকি দেয়ার ২৪-৪৮ ঘন্টা পর বাচ্চা বের হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে বাচ্চারা নিজের খোলস নিজেই ভেংগে বের হবে কোন বাইরের সাহায্য দরকার নেই।  কিছু বাচ্চা হয়তো ডিমের খোলস ভেংগে বের হতে পারছে না। তাদেরকে প্রকৃতির উপর সমর্পন করুন অথবা ৪৮ ঘন্টা অতিক্রান্ত হয়ে গেলে আলতো হাতে খোলাস ভেংগে বের করে আনুন। ভাগ্য ভাল হলে সেগুলো বেঁচে যেতে পারে।

১২।     বাচ্চার খাবার। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানীর খাবার কিনতে পাওয়া যায়। এক দিন বয়সী বাচ্চার জন্য উপযোগী খাবার কিনলেও প্রথম ৮-১০ দিন সেগুলোকে পাটায় পিষে কিংবা ব্লেন্ডারে একটু গুড়ো করে দিন। ব্রয়লারের বাচ্চার জন্য বানিজ্যিক খাবার উপযোগী হলেও আমাদের দেশীইয় মুরগী কিংবা কোয়েলের জন্য এগুলোর আকার বা ( Size) অনেক বড় হয়ে যায়। তাই প্রথম দিকে ভেংগে দিতে হয়।

১৩।     পানি। বাচ্চাকে অতি ঠান্ডা কিংবা অতি গরম পানি দেবেন না। কুসুম গরম পানি সবচে ভাল। প্রতিদিন পানির ট্রে ধুয়ে পরিস্কার করুন। ফোটানো পানি দিন।

১৪।     কতিপয় সমস্যা, কারণ ও প্রতিকার।

ক।      নির্দিষ্ট দিনের আগেই বাচ্চা ফুটে গেছে। তাপমাত্রা অনবরত ৩৭.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশী থাকলে কিংবা ডিম ইনকিউবেটরে রাখার আগে থেকেই ঐ তাপমাত্রায় রাখা হলে ডিম আগে ফুটে যেতে পারে।  ইনকিউবেটরে ডিম দেয়ার আগে ডিম যেন ২০-২৫০  ডিগ্রীর বেশী তাপমাত্রাইয় রাখা না হয় সেটা নিশ্চত করুন।

খ।       নির্দিষ্ট দিনের পরে বাচ্চা ফুটেছে। তাপমাত্রা অনবরত ৩৭.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কম থাকলে এটা হতে পারে।

গ।       পরিপূর্ন ভ্রুন, ঠোট বের করেছে কিন্তু মারা যাচ্ছে। নিম্ন আদ্রতা এবং  কম ভেন্টিলেশনের কারনে অথবা ডিমের নীচু দিক উপর করে ট্রে তে রাখলে এটা হতে পারে।(ডিমের মোটা অংশ উপর ডিকে থাকবে)।

ঘ।       পরিপূর্ন ভ্রুন, ঠোট বের করতে পারেনি এবং মারা যাচ্ছে। অতি বেশী আদ্রতা, কম ভেন্টিলেশনের কারনে অথবা ডিমের নীচু দিক উপর করে ট্রে তে রাখলে এটা হতে পারে।(ডিমের মোটা অংশ উপর ডিকে থাকবে)। এছাড়া ভ্রুন তৈরী হবার সময়ে ডিমের ট্রে অনেকক্ষন না ঘুরে এক পজিশনে থাকলেও এটা হতে পারে।

ঙ।       বাচ্চা বের হয়েছে, কিন্তু নাভী উম্মুক্ত এবং রক্তক্ষরণ। অতিরিক্ত তাপমাত্রা।

চ।       ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবার সময়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য। সাধারণত ৮০-৯০% ডিম একই দিনে ৪-৫ ঘন্টার ব্যবধানে ফুটবে। বাকী ডিম পরবর্তী ৭-৮ ঘন্টা আগে অথবা পরে ফুটবে। যদি এমন দেখা যায় যে  কিছু ডিম এখন, কিছু ডিম একদিন পর, কিছু ডিম ২ দিন পর ফুটেছে, তাহলে বুঝতে হবে যে, ইনকিউবেটরের ভেতরে কিছু জায়গায় গরম কিছু জায়গায় ঠান্ডা আবহাওয়া রয়েছে। যেসব জায়গা গরম সেগুলোর ডিম আগে ফুটে যাচ্ছে আর যেসব জায়গা ঠান্ডা, সেসবের ডিম পরে ফুটছে।

ছ।       বাচ্চা খোলসের সাথে আটকে যাচ্ছে।         অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং নিম্ন আদ্রতা অথবা বার বার ইনকিউবেটরের দরজা খোলা হলে এমনটা হতে পারে।

জ।      বিকলাংগ বাচ্চা। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে কিছু বাচ্চা বিকলাংগ হতেই পারে যার পরিমান সংখ্যায় ১-২% এর বেশী হবার কথা নয়। যদি এর থেকে বেশী হয় তাহলে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, নিম্ন আদ্রতা অথবা ডিম উলটা করে রাখার ফলে এমনটা হয়েছে।

ঝ।      দুর্বল বাচ্চা।   প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে কিছু বাচ্চা দুর্বল হতেই পারে যার পরিমান সংখ্যায় ১-২% এর বেশী হবার কথা নয়। যদি এর থেকে বেশী হয় তাহলে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, নিম্ন আদ্রতা অথবা ডিম উলটা করে রাখার ফলে এমনটা হয়েছে।

ঞ।     ভ্রুনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কিন্তু বাচ্চা ফোটেনি।  ডিম ঠিক মত উলটানো হয়নি, তাপমাত্রা সঠিক ছিল না, খারাপ ভেন্টিলেশন, রোগ বালাই কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকলে এটা হতে পারে।

ট।       সামান্য ভ্রুনের গঠন, তারপর মারা গেছে।  ব্যাকটেরিয়া সংক্রমন, ইনকিউবেটরে দেবার আগে অতি ঠান্ডা কিংবা অতি গরম তাপমাত্রায় ডিম সংরক্ষন, অপরিচ্ছন হাত, অপরিচ্ছন্ন ইনকিউবেটর, ইনকিউবেটরের আভ্যন্তরীন তাপমাত্রা হঠাত কম বেশী হলে কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকলে এটা হতে পারে।

ঠ।       ভ্রুন গঠিত হয় নি। অনিষিক্ত ডিম, ইনকিউবেটরে বসানোর আগে অতিরিক্ত নড়াচড়ার ফলে ডিমের  ভেতরে কুসুম ভেংগে যাওয়া কিংবা অনেক দূর থেকে ডিম আনার পর যথাযথ রেষ্ট না দিয়ে ইনকিউবেটরে ডিম বসালে এটা হতে পারে।

ইনকিউবেটরে ডিম ফুটানো কিছু সূত্র

অনেক টার্কি খামারী ভাই আছেন, তাদের উদ্দেশ্য এই পোষ্ট টা দিলাম। সবাই বলছে ইন্ডিয়ান টার্কির বাচ্চা মৃত্যুর হার ৬০% বা ৭০%, বৈজ্ঞানিক ভাবে বিশ্লেষণ করে দেখাযাক কেনো এই কথিত ইন্ডিয়ান টার্কির বাচ্চার মৃত্যুর হার ৬০%, আসল সমস্যা কোথায়? এখানে সমস্যা দুইটা কারনে, প্রথম কারন টা ইনকিউবেটর কন্ট্রোলার সার্কিটে নির্ভুল ভাবে তাপ মাত্রা এবং আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে না পরলে এই সমস্যা হবে, এবং ইনকিউবেটরের তাপমাত্র বা আদ্রতা নিয়ন্ত্রনের সেন্সর সঠিক জায়গায় স্থাপন না করলে বাচ্চা দুর্বল হবে, কিন্তু কেনো ইনকিউবেটরের কারনে বাচ্চা দুর্বল হবে! আমরা জানি, তাপমাত্রার সাথে ডিমের ভিতর বাচ্চার শরির গঠনের সম্পর্ক আছে, যদি কোনো ডিমে তাপ বেশী লাগে তবে সেই ডিমের খোসা ভঙ্গুর হয়ে যাবে এবং বাচ্চা তাড়াতারি ফুটবে এক্ষেত্রে বাচ্চা খুব দুর্বল হবে, আর যদি তাপ একটু কম পৌঁছায় তবে ডিম দেরিতে ফুটবে এতেও বাচ্চা দুর্বল হবে, ইনকিউবেটরে তাপমাত্রার সংকেত পৌছানোর সেন্সর যেখানে লাগানো থাকে সার্কিট শুধু সেই জায়গাটুকুর তাপমত্রা সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, অন্য স্থান গুলোতে তাপমাত্র একটু পার্থক্য থাকে,সেই পার্থক্য যদি বেশী হয় তবে সেখানকার বাচ্চা দুর্বল হবে, এবার ইন্ডিয়ান বাচ্চা ৬০% মারাযাবার দ্বিতীয় কারন, ব্রুডিং সিষ্টেম আমরা সবাই জানি জন্মের পর থেকে ৪ সপ্তহ বয়স পর্যন্ত বাচ্চা তাদের শরিরের তাপ নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা তাই কৃতীম তাপ দিতে হয়, কিন্তু আমাদের যে ব্রুডিং কক্ষ সেটাতে কি আটোমেটিক তাপ নিয়ন্ত্রনের কোনো ব্যবস্থা আছে! নেই। বাচ্চার শরিরে তাপের প্রয়োজন হলে বাল্পের কাছে বা তাপের উৎসের কাছে যায়, আর তাপ বেশি হলে বাল্প থেকে দুরে থাকে। কিন্ত বাচ্চা তো নিজেই জানেনা যে তাদের শরিরে কতটুকু তাপ লাগবে, এটাই হলো ভুল, টার্কির বাচ্চা যদি বেশী তাপে থেকে অভ্যস্থ হয়,পর্বতীতে স্বভাবিক আবহাওয়ায় কাম তাপে এসে বাচ্চা দুর্বল হয় এবং মারা যায়। এই সমস্যা থেকে বাঁচার সহজ এবং সঠিক উপায় হচ্ছে আপনার টার্কির ডিম গুলো দেশি মুরগী দিয়ে ফুটান এবং খামারের সবচেয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গায় যেখানে সঠিক আলো বাতাস পৌছায় সেখান বাচ্চাগুলো চার সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত দেশি মুরগীর সাথে রাখুন এবং প্রয়োজন হলে কৃতীম তাপের ব্যবস্থা রাখুন, দেখবেন মা মুরগীই বাচ্চাদের সঠিক তাপ গ্রহণ করা শিখাবে।


আজকে ইনকিউবেটরের সঠিক তাপমাত্রা, সঠিক আদ্রতা, এবং ডিম ঘুরানোর উপর লিখলাম। বিজ্ঞানের সূত্র এমন একটি নিখুঁত নিয়ম যেটা অনুশরন করলে সাফল্য নিশ্চিত। সূত্র বা নিয়ম মত কোনো কাজ করলে কাজ শেষ হবার আগেই অনেকটা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব,যে এই কাজের ফলাফল কি হতে যাচ্ছে। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোরও তেমনি একটা সঠিক নিয়ম রয়েছে সেই নিয়গুলো নিখুঁত ভাবে অনুশরন করলে ডিমও সঠিক ভাবে ফুটবে। যেমন, একটা নিদৃষ্ট দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়,আর ডিমের ভিতর এই বাচ্চা বড় হয় একটা নিদৃষ্ট তাপমাত্রায়। যেহেতু তাপমাত্রায় ভ্রুন বড় হয়, তাহলে ভ্রুনকে নিদৃষ্ট দিনে বড় করতে হলে একটা নিদৃষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখতে হবে,তবেই সেই তাপ সফলভাবে সঠিক সময়ে ভ্রুনকে বড় করে বাচ্চায় রুপান্তরিত করে ডিম থেকে বাচ্চা বের করবে। সেই সঠিক তাপমাত্রাটা প্রায় সবক্ষেত্রে ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৯ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। ডিমের ভিতর কিছু জ্বলীয় অংশ থাকে যেটা ভ্রুনের বয়সের সাথে সাথে একটা নিদৃষ্ট পরিমানে শুকাতে হয়। ডিমের ভিতরের তরল পদার্থ শুকিয়ে বাস্পায়িত হয় বা বাতাসে তরল টা মিশে যায়, এখন বাতাসে যদি বাস্পের পরিমান বেশি থাকে তবে ডিমের ভিতরের তরল আর বাতাস শুষে নেয় না, আবার বাতাসে যদি বাস্পের পরিমান কম হয় তাহলে ডিমের ভিতরের তরলটা বেশি শুষেনেয়, বাতাসে বাস্পের পরিমান কম অথবা বেশি থাকলে ডিমের তরল নিদৃষ্ট দিনে সঠিক পরিমানে শুকায়না। সেই কারনে বাতাসে সঠিক পরিমান জ্বলীয়বাস্প বজায় রাখতে হয়,আমর বাতাসের জ্বলীয় বাস্পের পরিমানকে বাতাসের আদ্রতা বলে জানি, তাই বাতাসের আদ্রতা সঠিক রাখতে হয় যাতে ডিমের তরল সঠিক সময়ে সঠিক পরিমানে শুকিয়ে সুস্থবাচ্চা বের হয়। ভ্রুনের সঠিক বৃদ্ধির জন্য ডিম গুলোক এদিক ওদিক ঘুরাতে হয়। যেহেতু ডিম ফুটার জন্য সঠিক তাপমাত্রা, সঠিক আদ্রতা, এবং সঠিক সময় ডিম ঘুরানোর উপর নির্ভর করে সুস্থ বচ্চা ফুটে তাই তাপমাত্রা আদোতা এবং ডিম ঘুরানো একটা নিদৃষ্ট সময় পর্যন্ত রাখতে হয়, আর এই সময়টা ডিমকে ইনকিউবেটরের সেটারে রাখতে হয়।

ডিম ফুটার ৪/৫দিন আগে সেটার ট্রে থেকে ডিমকে হেচার ট্রেতে নিতে হয়, এবং আদ্রতা, তাপমাত্রা,এবং ডিম ঘুরানোর পরিবর্তন করতে হয়। ডিম ফুটার ৪/৫দিন আগে বলতে, মনে করুন মুরগীর ডিম ২১দিনে ফুটে তাহলে ২১থেকে ৪বিয়োগ করলে ১৭অবশিষ্ঠ থাকে অর্থাৎ মুরগীর ডিম ১৭দিন পর্যন্ত সেটারে রাখতে হবে। এবং ১৭দিন থেকে অবশিষ্ঠ দিন গুলোতে হেচারে রাখতে হবে, অর্থাৎ ১৮তম দিন থেকে হেচারে রাখতে হবে,(ক্ষেত্র বিশেষে ৩দিন আগেও হেচারে রাখা যায়)। সেটারে এবং হেচারের যত্নের কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে সেটাই নিচে উল্লেখ করলাম।

মুরগী
মুরগীর ডিম ২১দিন বাচ্চা ফুটে।

*সেটার*
মুরগীর ডিমের জন্য সেটরের তাপমাত্রা রাখতে হবে,
৩৭.৭ডিগ্রীসেলসিয়াস, বা১০০ডিগ্রি ফ্যারেনহইট।
মুরগীর ডিমের জন্য সেটারে আদ্রতা রাখতে হয় ৪০%থেকে ৫০%।
*হেচার*
মুরগীর ডিম ১৮তম দিনে হেচার ট্রেতে রাখার পরে ডিম ঘুরানো বন্ধ করতে হয়।
মুরগীর ডিমের জন্য হেচরে সঠিক আদ্রতা ৬০%থেকে ৭০%।

হাঁস
হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয় ২৮দিনে।

*সেটার*
হাঁসের ডিমের জন্য সেটরের তাপমাত্রা রাখতে হবে,
৩৭.৭ডিগ্রীসেলসিয়াস, বা ১০০ডিগ্রি ফ্যারেনহইট।
হাঁসের ডিমের জন্য সেটারে আদ্রতা রাখতে হয় ৪৫%থেকে ৫০%।
*হেচার*
হাঁসের ডিম ২৫তম দিনে হেচার ট্রেতে রাখার পরে ডিম ঘুরানো বন্ধ করতে হয়।
হাঁসের ডিমের জন্য হেচরে সঠিক আদ্রতা ৬০%থেকে ৭০%।

মস্কভি
মস্কভির ডিম ফুটে বাচ্চাবের হয় ৩৭ দিনে।

*সেটার*
মস্কভির ডিমের জন্য সেটরের তাপমাত্রা রাখতে হবে,
৩৭.৭ডিগ্রীসেলসিয়াস, বা ১০০ডিগ্রি ফ্যারেনহইট।
মস্কভির ডিমের জন্য সেটারে আদ্রতা রাখতে হয় ৪৫%থেকে ৫৫%।
*হেচার*
মস্কভির ডিম ৩১তম দিনে হেচার ট্রেতে রাখার পরে ডিম ঘুরানো বন্ধ করতে হয়।
মস্কভির ডিমের জন্য হেচরে সঠিক আদ্রতা ৬০%থেকে ৭০%।

রাজহাঁস
রাজহাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়২৮থেকে ৩৪দিনে।

*সেটার*
রাজহাঁসের ডিমের জন্য সেটরের তাপমাত্রা রাখতে হবে,
৩৭.৭ডিগ্রীসেলসিয়াস, বা ৯৯ডিগ্রি ফ্যারেনহইট।
ডিমের জন্য সেটারে আদ্রতা রাখতে হয় ৪৫%থেকে ৫৫%।
*হেচার*
২৫তম দিনে রাজহাঁসের ডিম হেচার ট্রেতে রেখে ঘুরানো বন্ধ করতে হয়।
মস্কভির ডিমের জন্য হেচরে সঠিক আদ্রতা ৬৫%থেকে ৭৫%।

তিতির
তিতিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয় ২৬-২৮দিনে।

*সেটার*
তিতিরের ডিমের জন্য সেটরের তাপমাত্রা রাখতে হবে,
৩৭.৭ডিগ্রীসেলসিয়াস, বা ১০০ডিগ্রি ফ্যারেনহইট।
তিতিরের ডিমের জন্য সেটারে আদ্রতা রাখতে হয় ৪০%থেকে ৫০%।
*হেচার*
২৫তম দিনে তিতিরের ডিম হেচার ট্রেতে রেখে ঘুরানো বন্ধ করতে হয়।
তিতিরের ডিমের জন্য হেচরে সঠিক আদ্রতা ৬৫%থেকে ৭৫%।

টার্কি
টার্কির ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় ২৮দিনে।

*সেটার*
টার্কির ডিমের জন্য সেটরের তাপমাত্রা রাখতে হবে,
৩৭.৭ডিগ্রীসেলসিয়াস, বা ৯৯ডিগ্রি ফ্যারেনহইট।
ডিমের জন্য সেটারে আদ্রতা রাখতে হয় ৪০%থেকে ৫০%।
*হেচার*
টার্কির ডিম ইনকিউবেটরে দেবার ২৫তম দিনে হেচার ট্রেতে রেখে ঘুরানো বন্ধ করতে হয়।
টার্কির ডিমের জন্য হেচরে সঠিক আদ্রতা ৬৫%থেকে ৭৫%।

কোয়েল
কোয়েলের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয় ১৭-১৮দিনে।

*সেটার*
কোয়েলের ডিমের জন্য সেটরের তাপমাত্রা রাখতে হবে,
৩৭.৭ডিগ্রীসেলসিয়াস, বা ১০০ডিগ্রি ফ্যারেনহইট।
কোয়েলের ডিমের জন্য সেটারে আদ্রতা রাখতে হয় ৪৫%থেকে ৫০%।
*হেচার*
কোয়েলের ডিম ইনকিউবেটরে দেবার ১৪ তম দিনে হেচার ট্রেতে রেখে ঘুরানো বন্ধ করতে হয়।
কোয়েলের ডিমের জন্য হেচরে সঠিক আদ্রতা ৬০%থেকে ৭০%।

Monday, November 19, 2018

মুরগীর ব্রুডারে আলো ও উত্তাপের ব্যবস্থা

ব্রুডারে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চাদের কৃত্রিম উপায়ে তাপ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হয়৷ তাপ দেয়ার প্রধান উপকরণ হচ্ছে কেরোসিন বা বৈদ্যুতিক বাতি৷ কেরোসিন বা বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারের ফলে মুরগির বাচ্চা আলো ও তাপ একই সঙ্গে পেয়ে থাকে৷ ১০০টি মুরগির বাচ্চা পালন করা যায় এমন ব্রুডারে ৬০ ওয়াটের তিনটি বৈদ্যুতিক বাল্বের প্রয়োজন হয়৷ ব্রুডারে আলো ও তাপের জন্য যদি কেরোসিনের বাতি বা হ্যাজাক ব্যবহার করা হয় সেক্ষেত্রে  একটি কেরোসিনের বাতি হতে  ২০টি মুরগির বাচ্চা এবং একটি হ্যাজাক হতে ১০০টি মুরগির বাচ্চা আলো ও তাপ পেয়ে থাকে৷ কেরোসিনের বাতি বা হ্যারিকেনের সাহায্যে আলো ও তাপমাত্রা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ব্রুডারের মেঝেতে হ্যারিকেন অর্থাৎ কেরোসিন তেলের বাতির চারপাশে আড়াই ইঞ্চি দূরে তারের জাল ঘিরে দিতে হবে৷ নতুবা গরম তেলের সংস্পর্শে এসে বাচ্চা পুড়ে যাবে৷

 

আলো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা 

ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে বাচ্চাকে জন্মের পর থেকে সাতদিন পর্যন্ত সারা দিনরাত অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা কৃত্রিম আলোর মধ্যে রাখতে হবে৷ সাতদিন পর হতে মুরগিকে দিনের বেলা সূর্যের আলো এবং রাতে কৃত্রিম আলো মিলিয়ে মোট ২৩ ঘণ্টা আলোর মধ্যে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়৷ যে এক ঘণ্টা আলো থাকবে না সেই সময় মুরগি সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকবে৷ আলো জ্বালাবার ও অন্ধকার করার সময় সম্পর্কে একটি তালিকা নিম্নে দেয়া হলো যা আলো নিয়ন্ত্রণ করতে খামারীকে যথেষ্ট সাহায্য করবে৷

বয়স (সপ্তাহ) আলোর সময়

০-১।       সারা দিন ও রাত

১-২ ভোর ৪.০০ হতে রাত ১১.৪৫।

২-৩ ভোর ৪.০০ হতে রাত ১১.৩০।

৩-৪ ভোর ৪.০০ হতে রাত ১১.১৫।

৪-৫  ভোর ৪.০০ হতে রাত ১১.০০।

৫-৬  ভোর ৪.০০ হতে রাত ১০.৪৫।

৬-৭ ভোর ৪.০০ হতে রাত ১০.৩০।

৭-৮ ভোর ৪.০০ হতে রাত ১০.১৫।

৮-ঌ। ভোর ৪.০০ হতে রাত ১০.০০।

ঌ-১০। ভোর ৪.০০ হতে রাত ঌ.৪৫।

কৃত্রিম আলো বলতে বৈদ্যুতিক বাতি বা কেরোসিনের বাতিকে বুঝানো হয়েছে৷ তাপ ও আলোর চাহিদা মেটাতে প্রতিটি মুরগির জন্য এক ওয়াট শক্তির বৈদ্যুতিক আলোর প্রয়োজন৷ কৃত্রিম আলোর ক্ষেত্রে এক স্থানে ৪০ ওয়াটের বেশি শক্তির আলো দেয়া উচিত নয়৷ বৈদ্যুতিক বাতিগুলোর উপরে একটা করে রিফ্লেক্টর লাগিয়ে সারিবদ্ধভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখতে হবে৷ প্রত্যেকটি বাতি মেঝে হতে ৭ ফুট উঁচুতে থাকবে৷ লক্ষ্য রাখতে হবে যে প্রতিটি বৈদ্যুতিক বাতির আলো যেন ঘরের সব জায়গায় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে৷ লোডশেডিং এ যাতে কৃত্রিম আলো সরবরাহের কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা অবশ্যই রাখতে হবে৷

Wednesday, November 14, 2018

পোল্ট্রি খামারে শীতকালীন পরিচর্যা

বর্তমানে আমিষের অভাব দূরীকরণে আমাদের দেশে পোল্ট্রি পালনের বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকার দেশের যুব সমাজের জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ ঋণ দিয়ে পোল্ট্রি পালনে উত্সাহিত করছে।

শীতকালে পোল্ট্রি খামারের বিশেষ যত্ন না নিলে কমে যেতে পারে ব্রয়লারের ওজন বৃদ্ধি, লেয়ার খামারে ডিমের সংখ্যা এবং বেড়ে যেতে পারে মৃত্যু ঝুঁকি। তাই শীতকালে মুরগির বাচ্চার সঠিক তাপমাত্রা সরবরাহ করা একটি প্রধান সমস্যা।

এছাড়াও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খামারিরা মুরগির ঘরে পলিথিন বা মোটা কাপড়ের পর্দা ঝুলিয়ে রাখেন। এ কারণে মুরগির বাচ্চার ঘরে মুক্ত বাতাস বিশেষ করে অক্সিজেন সরবরাহে অপ্রতুলতা, এমোনিয়া গ্যাস বৃদ্ধির কারণে শ্বাসকষ্ট, মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়াসহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা যায়। ফলে প্রতিদিনই বাচ্চা মারা যায়। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য নিচের বিষয়গুলো ভালভাবে খেয়াল রাখতে হবে: 

১. ঘরে অবশ্যই ছালার বা চটের পর্দা ঝুলাতে হবে। 

২. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ডাবল করে চটের পর্দা সেলাই করে তবেই পর্দা ঝুলাতে হবে। অতিরিক্ত শীতে চিক গার্ডের চারদিকে এবং উপরে মশারীর মত করে চটের পর্দা ঝুলানো যেতে পারে। 

৩. ব্রুডার বক্সে ২০০ ওয়াটের বাল্ব লাগিয়ে ব্রুডিং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়াও তাপ দেওয়ার ঘরে অতিরিক্ত কিছু বাল্ব রিফ্লেকটারসহ নিচু করে ঝুলানো যেতে পারে এবং প্রয়োজন অনুসারে এগুলো জ্বালাতে হবে। 

৪. লোডশেডিং এবং তীব্র শীতের সময় তাপ দেয়ার ঘরে চিক গার্ডের চারদিকে প্রয়োজনমত কেরোসিনের স্টোভ জ্বালিয়ে ব্রুডিং তাপমাত্রা ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কেরোসিনের স্টোভের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেগুলো নীলাভ আগুন বের হয় এবং যেগুলো হোটেল রেস্তরাঁয় ব্যবহূত হয়। 

৫. ব্রুডিং তাপমাত্রা কম হলে বাচ্চা এক জায়গায় জড়ো হয়ে গাদাগাদি করে থাকে, বিশেষ করে রাতের বেলায় এবং এতে করে নিচে চাপে পড়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে অনেক বাচ্চা মরে যেতে দেখা যায়। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য ঘরের তাপমাত্রা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং মাঝে মাঝে বাচ্চাগুলোকে নাড়িয়ে দিতে হবে যেন অনেকক্ষণ একসাথে গাদাগাদি করতে না পারে। 

সবসময় মনে রাখতে হবে ইলেকট্রিক ব্রুডারের মাধ্যমে তাপ সরবরাহ করার চেয়ে গ্যাস ব্রুডার ব্যবহার করাই সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত। কারণ ইলেকট্রিক ব্রুডার ব্যবহারের মাধ্যমে মুরগির ঘরে আলোর কর্মসূচি সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে শীতকালে ইলেকট্রিক ব্রুডারের পাশাপাশি গ্যাস ব্রুডার ব্যবহার করলে সঠিকভাবে আলোর কর্মসূচি পালন করা যাবে, সেইসাথে ব্রুডিং তাপমাত্রাও যখন যা প্রয়োজন সেভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। যেমন- ১ম সপ্তাহে ব্রুডিং তাপমাত্রা:৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইড, ২য় সপ্তাহে ব্রুডিং তাপমাত্রা:৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইড, ৩য় সপ্তাহে ব্রুডিং তাপমাত্রা:৮৫ ডিগ্রি ফারেনহাইড, ৪র্থ সপ্তাহে ব্রুডিং তাপমাত্রা:৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইড, ৫ম সপ্তাহে ব্রুডিং তাপমাত্রা: ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইড রাখতে হবে তবে চিক গার্ড খুলে দিতে হবে। ব্রুডিং -এর সময় প্রথম ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত দৈনিক একবেলা প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম করে Electrolyte খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
লেখক: ডাঃ সুমন তালুকদার রুনু
এগ্রোবাংলা ডটকম

মুরগির শীতকালীন ব্যবস্খাপনা

শীতকালে বাংলাদেশে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। এ সময় খামারি ভাইদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণে শীতকালে মুরগি পালনে বিশেষ পরিচর্যার দরকার হয়। তাই লাভজনক খামার ব্যবস্খাপনার জন্য খামারি ভাইদের নিচের বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। 

বাসস্খান : শীতকালে বয়সভেদে মুরগির ঘরের ভেতরের পরিবেশ ঠিক করতে হবে। যে বয়সের মুরগি পালন করা হবে সে বয়সের মুরগির জন্য ঘরে উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের আশপাশের ঝোপ-জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে দিনের আলো পরিপূর্ণভাবে ঘরের চালার ওপর পড়ে। ঘরের দরজা-জানালার ফাঁক ব করে দিতে হবে যেন ঠাণ্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে না পারে। মুরগির ঘরে উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।

লিটার : শীতকালে লিটার হিসেবে ধানের শুকনা তুস সবচেয়ে ভালো। তুষ মুরগিকে গরম রাখে। ব্রুডার হাউসে ৫-১০ সেন্টিমিটার পুরু করে লিটারসামগ্রী বিছাতে হবে। মুরগি যদি ফ্লোরে পালন করা হয়, তাহলে বড় মুরগির জন্য লিটারের পুরুত্ব ৪ ইঞ্চির কম হবে না। লিটারসামগ্রী হতে হবে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত। কোনো কারণে পানি পড়ে লিটার ভিজে গেলে ভিজা লিটার ফেলে ওই স্খানে শুকনা লিটার বিছাতে হবে। লিটার যেন খুব শুকনা ধুলাময় না হয়। 

তাপমাত্রা : শীতকালে মুরগি পালনে সবচেয়ে বড় সমস্যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। মুরগির ঘরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা দরকার ৬৫-৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তবে ব্রুডার হাউসে প্রাথমিক তাপমাত্রা দরকার পর্যায়ক্রমে ৩৫-২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যখন পরিবেশের তাপমাত্রা খুব বেশি কমে যায়, তখন ব্রুডারে বাল্ব সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে। ঘরের চালা টিনের হলে হার্ডবোর্ড বা এই জাতীয় পদার্থ দিয়ে সিলিং দিতে হবে। ঘর উষä রাখতে টিনের বা ছাদের ওপর খড় বিছিয়ে দিতে হবে। ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্খা থাকতে হবে। ব্রুডিং পিরিয়ডে বাচ্চা যাতে সমভাবে তাপ পায় এ জন্য ৫০০ বাচ্চার জন্য ১০০ ওয়াটের তিনটি বাল্ব সংযুক্ত একটি ব্রুডার হার্ডবোর্ড বা প্লেনশিট দিয়ে তৈরি চিকগার্ডের মধ্যে স্খাপন করতে হবে। 

আলো : মুরগির ঘরে আলো এমনভাবে দিতে হবে যেন তা ঘরে সমভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রুডিং পিরিয়ডে প্রথম তিন দিন নিরবচ্ছিন্ন আলো দরকার। 

বাচ্চার ঘনত্ব : ব্রুডার হাউসে প্রতি বর্গমিটারে প্রথমে ৫০টি বাচ্চা রাখতে হবে এবং চার দিন বয়সের পর থেকে ক্রমান্বয়ে জায়গা বাড়িয়ে দিতে হবে। ১৪ দিন বয়সের পর ঘরের তাপমাত্রা ঠিক রেখে বাচ্চা যাতে পুরো ঘরে বিচরণ করতে পারে সে অনুযায়ী জায়গা বাড়াতে হবে। ডিমপাড়া মুরগির শরীরের তাপমাত্রা ঘরের তাপকে কিছুটা প্রশমিত করলেও উৎপাদনের জন্য এটা ভালো নয়। তাই ঘরে মুরগির ঘনত্ব কেমন হবে তা নির্ভর করবে ঘরের ধরন, ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি, মুরগির বয়স, জাত ও পালন পদ্ধতির ওপর, পরিবেশের তাপমাত্রার ওপর নয়। 

ভেন্টিলেশন : মুরগির ঘরে ভেন্টিলেশন ব্যবস্খা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভেন্টিলেশন ব্যবস্খা বাতাস প্রবাহের মাধ্যমে ঘরে উৎপন্ন বিষাক্ত বাতাস বের করে এবং বিশুদ্ধ বাতাস প্রবেশ করে। শীতকালে ঘরে ঠাণ্ডা বাতাস যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সব দরজা-জানালা ব রাখলেও ভেন্টিলেশন ব্যবস্খা অবশ্যই চালু রাখতে হবে। 

খাদ্য : শীতকালে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় মুরগি খাবার বেশি খায়। অতিরিক্ত খাবার খেয়ে শরীরে তাপ উৎপাদন করে। অর্থাৎ শীতকালে শরীরে বেশি ক্যালরি দরকার হয়। এ জন্য রেশনে শর্করা-চর্বি উৎপাদনের উৎস কিছুটা বাড়িয়ে দিতে হবে। তবে রেশনের সব খাদ্য উপাদানের পরিমাণগুলো ঠিক রেখে কিছু পরিমাণ তেল মিশিয়ে ক্যালরির পরিমাণ বাড়ানো যায়। ব্রুডিং অবস্খায় প্রথম তিন দিন লিটারের ওপর চট বা কাগজ বিছিয়ে তার ওপর খাদ্য ছিটিয়ে দিলে ভালো হয়। বাচ্চা মুরগিকে অল্প অল্প বার বার খাবার দিতে হবে। ফলে খাবার খাওয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। শীতকালে সব বয়সের মুরগির উৎপাদন ( গোশত, ডিম) কমে যায়। তাই সরবরাহকৃত খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদানের থাকা নিশ্চিত করতে হবে। 

পানি : মুরগি যা খাবার গ্রহণ করে তার দ্বিগুণ পানি পান করে। তবে শীতকালে ঠাণ্ডার কারণে পানি গ্রহণের পরিমাণ কম হয়। তাই পানি গ্রহণের পরিমাণ ঠিক রাখতে প্রচণ্ড শীতের সময় সকালে ঠাণ্ডা পানি না দিয়ে হালকা গরম দিতে হবে। পানি ভরার আগে পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। 

ভ্যাক্সিনেশন : সঠিক খামার ব্যবস্খাপনার জন্য একটি ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। ব্রয়লারের জন্য রানীক্ষেত এবং গামবোরো এই দু’টি ভ্যাক্সিনই যথেষ্ট, তবে ব্রিডার খামারের জন্য সম্পূর্ণ ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচি অনুসরণ করতে হবে। শীতকালে পরিবেশের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণ বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও রানীক্ষেত রোগ সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। ধারণা করা হয় রানীক্ষেত রোগ প্রতিরোধ করার মাধ্যমে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ কমানো যায়। এ জন্য সময়মতো রানীক্ষেত রোগের ভ্যাক্সিন নিয়মিত করতে হবে। 

জীবাণুনাশক স্প্রে : শীতকালে পরিবেশের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তাই বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা খামারের আশপাশে ১০০ গজের মধ্যে প্রতিদিন জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। মুক্ত পরিবেশে ছেড়ে পালন করা মুরগি যাতে খামারের সংস্পর্শে না আসে এটা খেয়াল রাখতে হবে। এবং ওই সব মুরগি নিয়মিত টিকা প্রদানের ব্যবস্খা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ওই সব মুরগি থেকেই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি থাকে। 

মেডিকেশন : শীতকালে রানীক্ষেত, মাইকোপ্লাজমা প্রভৃতি রোগের বিস্তার বেশি ঘটে। রোগাক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তপূর্বক চিকিৎসা দিতে হবে। তা ছাড়া শীতের কারণে রোগ প্রতিরোধ সামর্থ্য কমে যাওয়া নিরাময় দুরূহ হয়ে পড়ে।
এগ্রোবাংলা ডটকম